Biography

Prof. Dr. M. A. Muhit

ডক্টর মোহাম্মদ মুহিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর লন্ডনে যান উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য। সেখানে তিনি দুটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী ও পরবর্তীতে কৃতিত্বের সাথে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। দীর্ঘ লেখাপড়ার জীবনে সবসময়ই তিনি প্রচণ্ড মেধাবী ছাত্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।

ডক্টর মুহিত কর্মজীবনেও একজন খুবই সফল মানুষ। খুব অল্প বয়সে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ছাত্রদের মাঝে একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি সুদূর লন্ডনে থেকেও দেশ নিয়ে সব সময়ই ভাবতেন এবং কিভাবে বাংলাদেশের দরিদ্র শিশুদের বিশেষকরে যারা দৃষ্টিহীনতা এবং প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বাস করছে তাদের নিয়ে। তাই তিনি ১২ বছর আগে দেশে আসেন শিশু দৃষ্টিহীনতার উপর গবেষণা করতে এবং তাদের জীবনে আলো ফোটাতে। তিনি সিএসএফ (Child Sight Foundation) প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ঘুরে ঘুরে ১৭,৫০০ শিশুর চোখ পরীক্ষা করে ৭,৫০০ শিশুর চোখ অপারেশন এর ব্যবস্থা করেন। আজ তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন, এটা তার অদম্য ইচ্ছা ও দেশের প্রতি ভালবাসার ফল।

তারই উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথম শিশু প্রতিবন্ধিতা নিয়ে গবেষণা শুরু হয় এবং গবেষণা থেকে প্রায় ৬,৫০০ প্রতিবন্ধী শিশু সনাক্ত এবং প্রায় ৪,২৫০ শিশুকে হুইল চেয়ার, স্পেশাল হুইল চেয়ার, কাটা ঠোট, কাটা তালু অপারেশন করা হয়, হেয়ারিং এইড প্রদান, মৃগী রোগীদের ঔষধ প্রদান এবং শিশুদের অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

তিনি জাতীয় পর্যায়ে ৮৫ টি সংগঠনের সমন্বয়ে একটি নেটওয়ার্ক “চাইল্ড ডিজেবিলিটি নেটওয়ার্ক” প্রতিষ্ঠা করেন এবং বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আন্তজার্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসাবে অংশগ্রহণ করেছেন যেমন : England, America, Germany, Sweden, Netherlands, France, South Africa, Tanzania, Malawi, Singapore, Hong Kong, Sri Lanka, India, Nepal, Egypt, Argentina, Brazil, Mexico সহ বিশ্বের ২৪ দেশে। এছাড়া তিনি আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠান, Sight Savers International, CBM and MA, UK এর কনসালটেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

ডক্টর মোহাম্মদ মুহিত, ২০০০ সালে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন সিএসএফ। আজ অবধি সিএসএফ প্রতিবন্ধী শিশুদের সনাক্তকরণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন, গবেষণা, সামাজিক সচেতনতা এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এসব কিছুর সাথে সাথে তিনি বর্তমানে তার বাবা, ডক্টর এম এ মতিন, এর প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়ার প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া ঢাকার বনানীতে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেটা বাংলাদেশের জন্য যোগ্য মানুষ গড়ে তোলার জন্য অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে।

No band members currently listed.
No comments yet.

Leave a Reply